দলের ভারসাম্যই বড় ভরসা নতুন দল গুজরাত লায়ন্সের

এবারের আইপিএলের দুই নতুন দলের একটা হল গুজরাত লায়ন্স। এই প্রথম গুজরাতে কোন আইপিএল দল গড়ল কোন কর্পোরেট গোষ্ঠী। ইন্টেক্স টেকনোলজিসের তেইশ বছরের মালিক কেশব বনশলের হাতে দলের মালিকানা। কোর্টের নির্দেশে দু-বছরের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়া চেন্নাই সুপার কিংস আর রাজস্থান রয়ালসের থেকে নতুন দুই দল গুজরাত লায়ন্স আর রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টস মোট ৫ জন করে ক্রিকেটার কে নিলামের আগেই দলে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল। লায়ন্সরা তাই নিলামের আগেই দলে তুলে নেয় আগে চেন্নাইয়ে খেলা সুরেশ রায়না, রবীন্দ্র জাদেজা (দুজনেই ভারতের), ডোয়েন ব্রাভো (ওয়েস্ট ইন্ডিজ), এবং ব্রেন্ডন ম্যাক্কালাম (নিউজিল্যান্ড) কে । নিলামের আগে গুজরাত দলে নেয় জেমস ফকনারকেও (অস্ট্রেলিয়া), যে আগে ছিল রাজস্থান রয়ালসে। বোঝাই যাচ্ছে যে লায়ন্সের লক্ষ্য ছিল যত বেশি সম্ভব অলরাউন্ডার আগে নিয়ে নেওয়া যাদের কেউ স্পিন করতে সক্ষম আর কেউ পেস। আইপিএলের কয়েক বছরের ইতিহাসে অন্যতম সফল খেলোয়াড় সুরেশ রায়নাকে অধিনায়ক হিসাবে রাখল লায়ন্সরা। কোচ নিয়োগ করল টি-২০ ফরম্যাটের ইতিহাসে অন্যতম সফল খেলোয়াড় অস্ট্রেলিয়ার ব্র্যাড হজকে। দলে এবার গতবছর চেন্নাইয়ের দলে থাকা খেলোয়াড়ের আধিক্য বেশ বেশি। উপরিউক্ত ৪ জন খেলোয়াড়রা ছাড়াও গতবার সুপার কিংসে ছিল এমন খেলোয়াড়দের মধ্যে নিলাম থেকে ডোয়েন স্মিথ আর একলব্য দ্বিভেদিকে কিনেছিল তারা। নিলাম থেকে কেনা শাদাব জাকাতি-ও আইপিএলের প্রথম কয়েক মরসুম চেন্নাইয়ে খেলেছে।

নিলামে প্রথমেই তারা ২.৩ কোটি দিয়ে কিনে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের অলরাউন্ডার এবং সুপার কিংসের আরেক প্রাক্তন এবং সফল খেলোয়াড় ডোয়েন স্মিথ কে। ডোয়েন ছাড়াও নিলামে লায়ন্স আর যে বিদেশীদের কিনেছে তারা হল অস্ট্রেলিয়ার অ্যারন ফিঞ্চ(১ কোটি) এবং অ্যান্ড্রু টাই(৫০ লাখ) আর দক্ষিণ আফ্রিকার বিখ্যাত পেস বোলার ডেল স্টেইন(২.৩ কোটি)। নিলামে গুজরাত লায়ন্সের কেনা ভারতীয় ক্রিকেটাররা হল প্রবীণ কুমার(৩.৫ কোটি), দীনেশ কার্ত্তিক(২.৩ কোটি), ধাওয়াল কুলকার্ণি(২ কোটি,একলব্য দ্বিভেদি(১ কোটি),ইশান কিসান(৩৫ লাখ),জয়দেব শাহ(২০ লাখ),শাদাব জাকাতি(২০ লাখ),প্রদীপ সাঙ্গওয়ান(২০ লাখ),প্রভিন তাম্বে(২০ লাখ),সারাবজিত লাড্ডা(১০ লাখ),শিভিল কৌশিক(১০ লাখ), আকাশদীপ নাথ(১০ লাখ),পরস ডোগরা( ১০লাখ),অমিত মিশ্র(১০ লাখ),উমাং শর্মা(১০ লাখ)।

maxresdefault

গুজরাত তাদের দলে এবার ঘরোয়া ক্রিকেটের প্রচুর খেলোয়াড়কে রেখেছে যারা ২০১৫-১৬ ক্রিকেট মরসুমে বিশেষ করে ঘরোয়া টি-২০ টুর্নামেন্ট সঈদ মুস্তাক আলি ট্রফি তে ভালো পারফরমান্স করেছে। এবারের টি-২০ চ্যাম্পিয়ন উত্তরপ্রদেশ থেকে তাই রয়েছে বেশ কিছু খেলোয়াড়। উত্তরপ্রদেশের অধিনায়ক রায়না যে এই ব্যাপারে লায়ন্স ম্যানেজমেন্টকে প্রভাবিত করেছে নিলামের আগে সে নিয়ে কোন সন্দেহ থাকা উচিত নয়।রায়না ছাড়া উত্তর প্রদেশের আর যেসব খেলোয়াড়রা এবার গুজরাত লায়ন্সে রয়েছে তারা হল প্রবীণ কুমার, একলব্য দ্বিভেদি, আকাশদীপ নাথ, অমিত মিশ্র (পেস বোলার), উমাং শর্মা।
গুজরাত লায়ন্সের সব থেকে উল্লেখযোগ্য দিকটা হল তাদের আন্তর্জাতিক মানের এবং আইপিএলে সফল অলরাউন্ডার, রবীন্দ্র জাদেজা, ডোয়েন ব্রাভো, ডোয়েন স্মিথ, সুরেশ রায়না ও জেমস ফকনার রা। এছাড়া ফিঞ্চ, ম্যাক্কালাম দের ব্যাটিং এবং স্টেন, প্রবীণ কুমার, ধাওয়াল কুলকারনি, টাই দের পেস বোলিং-ও গুজরাত সমর্থকদের বড় ভরসার জায়গা। তবে সমস্যা হল সীমিত ওভারের ক্রিকেটে স্টেনের বেশ কিছু বছর ধরে চলা খারাপ ফর্ম। ইদানিংকালে স্টেন চোটের সমস্যাতেও বেশ ভুগছে। দলের স্পিন বোলিং-ও টি-২০র নিরিখে বেশ শক্তিশালী। আইপিএল খেলে নজর কাড়া জাকাতি বা ৪৪ বছরের তাম্বে ছাড়াও জাদেজা, রায়না, সারাব্জিত লাড্ডা-রা স্পিন বিভাগে কোচ হজের বড় ভরসা। বহুদিন-ই হল ম্যাক্কালাম কোন ফরম্যাটের ক্রিকেটেই কিপিং করে না। তাই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান হিসেবে নিলামে গুজরাত প্রথমে জোরদার চেষ্টা করেছিল আইপিএলের অন্যতম সফল উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান সঞ্জু স্যামসনকে নিতে। শেষমেশ দিল্লি ডেয়ারডেভিলস তাকে ৪.৩ কোটি টাকায় তুলে নেয়। তারপর রয়াল চ্যালেঞ্জারস বাঙ্গালোরের সাথে লড়ে লায়ন্সরা নিলামে তুলে নেয় দীনেশ কার্তিককে। এছাড়া গুজরাত তুলে নিয়েছে ঘরোয়া টি-২০ টুর্নামেন্ট জেতা উত্তরপ্রদেশের উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান একলব্য দ্বিভেদি আর অনুর্ধ্ব উনিশ ভারতীয় দলের অধিনায়ক এবং বাঁ-হাতি ওপেনার ঝাড়খণ্ডের ইশান কিষানকে যে উইকেটকিপিং-এও পটু। প্রসঙ্গত ভারতীয় দলের হয়ে কোন ফরম্যাটের ক্রিকেটে-ই কোন আন্তর্জাতিক ম্যাচ না খেলা ক্রিকেটারদের মধ্যে একলব্য এবারের আইপিএল নিলামে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হওয়া ক্রিকেটার। সঈদ মুস্তাক আলি ট্রফিতে একলব্য এবার চ্যাম্পিয়ন উত্তরপ্রদেশের সর্বাধিক রানসংগ্রহকারি ব্যাটসম্যান। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট এবং আইপিএলে কম অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ক্রিকেটারদের আধিক্য গুজরাত লায়ন্সের একটা সমস্যা হলেও হতে পারে। জাঁকজমকপূর্ণ টুর্নামেন্টে, যেখানে প্রায় দেড় মাস ধরে দর্শক ঠাসা স্টেডিয়ামে পর পর ম্যাচ খেলে জেতে হবে, সেখানে প্রত্যাশার চাপ সামলে, স্নায়ু ঠান্ডা রেখে এই ক্রিকেটাররা কতটা পারফর্ম করতে পারে সেটা দেখার। তবে গুজরাত লায়ন্সের দলে যে ভারসাম্যের অভাব নেই সেটা বলাই যায়।এবার শুধু দেখার যে তাদের প্রথম আইপিএল অভিযান কেমন হয়।

~ অর্ঘ্য লাহিড়ী

ছবি সৌজন্যেঃ hdwallpapersdownloads.net

~

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s