সেই উত্তেজনার দিন, সেই মায়াবী রাত

এপ্রিল ২, ২০১১

(সন্ধ্যে ছটা পঁচিশ)

ওভারের লাস্ট বলটাও উড়ে গেল ডিপ স্কোয়ার লেগ বাউন্ডারির ওপর দিয়ে। ‘ছয়’। জাহিরের এই ওভারে আগে দুটো চার হয়েছে। সব মিলিয়ে ১৮ রান। এক লাফে শ্রীলংকার রান পৌঁছে গেছে দুশো চুয়াত্তরে। টিভিতে দেখতে পাচ্ছি এক মুখ হাসি নিয়ে থিসারা পেরেরা জড়িয়ে ধরেছে মাহেলাকে। সেই মাহেলা। দু ঘন্টা চল্লিশ মিনিট মাঠে থাকা মাহেলা, ৮৮ বলে তেরোটা চার মেরে একশো তিন রানে নট আউট থাকা মাহেলা, গত চোদ্দ বছর ধরে দেশের হয়ে লড়ে যাওয়া মাহেলা, যে আজকে বিশ্বকাপটা কিছুটা হলেও শ্রীলঙ্কার দিকে একটুখানি এগিয়ে দিয়েছে।

২০০৩ এ পন্টিং, ২০০৭ এ গিলক্রিস্ট, ২০১১ তেও কি তাহলে মাহেলার সেঞ্চুরিতে ভর দিয়েই কাপ চলে যাবে শ্রীলঙ্কায়? ভারতের কাছে অধরা থেকে যাবে ট্রফি। এইসব ভাবতে ভাবতেই দেখলাম যে, থিসারা আর মাহেলার সেলিব্রেশান তখনও চলছে। যত্তসব! একবার মনে হল, খেলা এখনো অর্দ্ধেক বাকি। ২৭৫ রান ফাইনালের পক্ষে বেশ বড় টার্গেট হলেও অসম্ভব কিছু নয়। শ্রীলঙ্কার এত নাচানাচি বোধ হয় উচিত নয়। মনের অন্য পার্ট বোঝালো, বেশী ভেবো না, তোমার টিম হলে তুমিও নাচতে বস।

এইসব সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতেই টিভিতে জাহিরকে দেখালো। সেই জাহির, যে ২০০৩ এর ফাইনালকে ভোলাতে চেয়েছিল আজকে। কিন্তু ব্যাটিং পাওয়ারপ্লেতে বল করতে এসে শেষ তিন ওভারে ৪৪ রান দিয়েছে সে। ৯, ১৭ আর ১৮। ওই পাঁচ ওভারে ২১১ থেকে ২৭৪ এ পৌঁছেছে শ্রীলংকা। কিন্তু শুরুতে… সে এক অন্য জাহির!

(দুপুর তিনটে)

শ্রীলঙ্কা তখন ছ ওভারের শেষে ১৭ রানে দাঁড়িয়ে। উপুল থারাঙ্গা নিজের প্রথম রান নিতে গিয়ে শ্রীশান্তের ইয়র্কারে ব্যাট ভেঙ্গে ফেলেছিল। প্রথম উনিশ বল খেলে দু রান করেছে। জাহিরের প্রথম তিনটে ওভারই মেডেন। অন্যদিক থেকে শ্রীশান্ত নিয়ম মত বাউন্ডারি বল করে যাচ্ছে। আহত নেহেরার বদলে ফাইনালে দলে আসা শ্রীশান্ত। যাকে নিয়ে তাঁর একটু আগেই স্ট্যাটাস আপডেট দিয়েছিলাম আমি।

Tapabrata Banerjee

2 April 2011 ·

The Biggest gamble of MS Dhoni’s life… and SG thinks it’s a good move!! Let’s see what Sree can do!!

Like Comment Share

জাহিরের চতুর্থ ওভারের প্রথম বল। আগেই বলেছি, প্রথম তিনটে ওভার মেডেন। টাইট লাইন-লেংথে একটার পর একটা বল করে যাচ্ছে জাহির। তার চতুর্থ ওভারের প্রথম বলেও রান নেই, কিন্তু উইকেট আছে। আউট সুইঙ্গারে খোঁচা লাগিয়ে সেহওয়াগের হাতে ক্যাচ আউট থারাঙ্গা। জাহিরের প্রথম স্পেলের শেষে হিসেব পাঁচ ওভারে তিনটে মেডেন, ছয় রান, এক উইকেট। শ্রীলংকা প্রথম দশ ওভারে ৩১ রান। ব্যাপারটা তখনও কন্ট্রোলে ছিল।

(সন্ধ্যে সাতটা কুড়ি)

আবার সেই সাত নম্বর ওভারের প্রথম বল। তখন ছিল জাহির আর থারাঙ্গা! আর এখন, একদিকে মালিঙ্গা, শেষ চার বছরের আইপিএলে মুম্বাই ইন্ডিয়ানকে একের পর এক ম্যাচ জিতিয়ে সে ততদিনে ‘আমচি মুম্বাই’ ব্রিগেডের সদস্য। অন্যদিকে মুম্বাইয়ের সবচেয়ে বড় আইকন শচীন তেন্ডুলকার। নিজের ছ নম্বর বিশ্বকাপে অন্তত একবার ট্রফিটা জেতার জন্য লড়ে যাচ্ছে। প্রথম শুরু করেছিল কপিল দেব, কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্তদের সঙ্গে, এরপর মঞ্জরেকার, কাম্বলি পার হয়ে সৌরভ, রাহুল, অনিলদের সঙ্গে চেষ্টার পর এখন খেলে যাচ্ছে কোহলি, আশ্বিন, চাওলাদের সঙ্গে। কোটি কোটি ভারতীয় মনে করে বিশ্বজয়ের একমাত্র চাবিকাঠি আছে শুধু শচীনের ব্যাটেই। সেই শচীন! ততক্ষণে একটা স্ট্রেট ড্রাইভ মারা হয়ে গেছে। কাট করে আরো একটা চার। তেরো বলে ১৮। মোটামুটি সেট, গোটা মাঠের রক্তচাপ, যেটা দ্বিতীয় বলে শেহওয়াগ আউট হওয়ার পর তুঙ্গে উঠে গেছিল, আস্তে আস্তে নর্মাল হচ্ছে।

মালিঙ্গার চতুর্থ ওভারের প্রথম বল। অফস্টাম্প লাইনের বাইরে পরে হাল্কা আউটসুইং, শচীনের ব্যাট শরীর থেকে একটু বেশী দূরে, ড্রাইভ করতে গেল। কানায় লেগে বল চলে যাচ্ছে উইকেট কিপারের কাছে। একটা মুহূর্ত, বোধহয় এক সেকেন্ডেরও কম সময়। তারপর সাঙ্গা লাফাচ্ছে, পুরো শ্রীলংকা টিম ছুটছে মালিঙ্গার পেছনে পেছনে। মালিঙ্গা কোথায়, তাকে ক্যামেরা ধরতে পারছে না। কিন্তু শ্রীলঙ্কার সেলিব্রেশান শেষ হওয়ার আগেই আমার টিভির স্ক্রিন অন্ধকার। হ্যাঁ টিভি বন্ধ করে দিয়েছিলাম। না না, শচীন আউট মানেই টিভি বন্ধের রোগ আমার কোনদিনই ছিল না। কারণ ছোটবেলায় চরম আশাবাদী ছিলাম, আর মোটামুটি ৯৮-৯৯ থেকে জানতাম, শচীন গেলেও ওর বন্ধু সৌরভ আছে, রাহুল আছে, লক্ষণ আছে। এই টিমেও যুবরাজ আছে, ধোনি আছে। কিন্তু এটা যে ফাইনাল। বিশ্বকাপ ফাইনাল! যে ফাইনালের টেনশান তো ছিল দুদিন আগে থেকেই।

(সকাল আটটা)

বিশ্বকাপের ফাইনাল দুপুর আড়াইতে থেকে। কিন্তু চাপা টেনশান, সে তো সেমিফাইনালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জয়ের পর থেকেই। সেই বেস্পতিবারের ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ। যেদিন সন্ধ্যে সাতটার পর থেকে অফিসে বসেও একটা কাজও কেউ করেনি। যেখানে প্রত্যেকে দিন রাত আটটা থেকে দশটা সাড়ে দশটা অবধি বিজনেস কলের সময়, সেদিন মাথায় হেডসেটের বদলে সবার চোখ ফ্লোরের টিভি স্ক্রিনের দিকে। আমার বিজনেস পার্টনার অ্যালিসনকে এখনও মনে মনে ধন্যবাদ জানাই। সেই একটা দিন তাকে বলে দিয়েছিলাম, আজকে কল রেখো না অ্যালিসন। সে শুনেছিল। এটা পড়ে হয়তো আমার প্রোফেশানালিজম নিয়ে প্রশ্ন উঠবে, কিন্তু ওটা ছিল ইন্ডিয়া-পাকিস্তান, তাও বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল! ওরকম দিনে একটুআধটু ওরকম হয়েই থাকে!

এরপর শুক্রবার, শনিবার কাটিয়ে রোববার। আর মাত্র কয়েক ঘন্টা বাকি। গরমকালে কালবৈশাখীর আগে আকাশে জমা মেঘের রঙ যেমন ভাবে ধূসরের বিভিন্ন শেড পার হয়ে ঘন কালো হয় সেইভাবে আমার টেনশান জমতে জমতে শেষ অবধি একটা ফেসবুক পোস্ট হয়ে বেরিয়ে এল।

Tapabrata Banerjee published a note.

2 April 2011 ·

The Blue Dream

All The best my team India!! Play hard, have fun and enjoy these 8 hours!! Those most important 8 hours of your life, our life… we the one Billion ‘Bleeding blue’ fans!! For some of us that moment will be more important than their first job or their first kiss!! Play for your country, play for your fans!! I trust you guys… you are the best!! And I will keep supporting you guys as long as I live on this planet earth!!

ঘড়ির কাঁটা এগিয়ে চলছে। স্নান হল, লাঞ্চও হল। নীল রঙের টিশার্ট পরে খেলা দেখতে বসে পড়লাম। নীল তো পরতেই হবে। আমরা যে ‘ব্লিডিং ব্লু’ ফ্যান।

(রাত আটটা)

টিভি বন্ধ। ফেসবুকে যাওয়ারও সাহস নেই। কারণ ফেসবুকে ভারতের নেক্সট উইকেট পড়ার দুঃসংবাদ শোনা মোটেই পোষাবে না। সুতরাং বই খুলে বসলাম। বৃথা চেষ্টা, মন বসছে না। ওদিকে পাশের ঘরে টিভি চলছে কিন্তু। আমি যদিও মধ্যিখানের দরজাটা বন্ধ করে বসে আছি। মাঠে তখন দুই দিল্লীওয়ালা গৌতম আর বিরাট খেলে যাচ্ছে। সামান্য সাহস সঞ্চয় করে আটটা নাগাদ পাশের ঘরে গিয়ে বসলাম। মা-বাবা তো ছিলই। মুড়ি-চানাচুর খাচ্ছিল। আস্তে আস্তে রান বাড়ছে। প্রথমে গম্ভীরের পঞ্চাশ হল। তাঁর পরেই ভারতের একশো। আরো একশো পঁচাত্তর রান বাকি! মুরলিধরণ সবে বল করতে এসেছে তার শেষ ওয়ান ডে ম্যাচে। কুড়ি ওভারে ১০৯ রানে দু উইকেট।

মা-বাবার মুড়ি খাওয়া শেষ। মা উঠে গেল বাটিগুলো রাখতে আর ঠিক তখনই কোহলি আউট! পুরো ‘এগেন্সট দ্যা ফ্লো’। আগের বলেই কাট করে চার মেরেছিল। তার পরের বলেই একটা হালকা পুশ ড্রাইভ নন-স্ট্রাইকারের সামনে ডাইভ দিয়ে অনবদ্যভাবে ধরল দিলশান। ১১৪ রানে তিন উইকেট তখন।

এসব ক্ষেত্রে যা হয়। কোহলির আউটটার দোষ পুরোটাই আমার মায়ের ঘাড়ে চাপালাম। “কী দরকার ছিল মুড়ি খেয়ে উঠে যাওয়ার।” এইসব খেলার মূলমন্ত্র হল ঘরের সবচেয়ে লাকি জায়গাটা খুঁজে বের করে সেখানে গ্যাঁট হয়ে বসে থাকা। মাকে ডেকে আনা হল এবং বলা হল খেলা শেষ হওয়া অবধি উঠবে না। মা একবার রুটির করার কথা বললেও সেটাকে পাত্তা দিলাম না। জোর করে বসিয়ে দিলাম। আর এইসবের মধ্যেই দেখলাম যুবরাজের বদলে ধোনি খেলতে নেমে পড়েছে! তখনো অবধি ২০১১ বিশ্বকাপে আট ইনিংসে তার রান ১৫০।

(রাত এগারোটা তিরিশ)

Tapabrata Banerjee

2 April 2011 ·

I can do a tattoo written “Well Off course” on my arm!!!

Like  Comment  Share

(রাত নটা)

ড্রিঙ্কস ব্রেক। ৩২ ওভার খেলা হয়েছে। ভারতের রান ১৬৫। তিন উইকেটই আছে। আর ১৮ ওভারে ১১০ রান বাকি। রিকোয়ার্ড রেট ছয়ের সামান্য বেশি। ধোনি আর গৌতম দুজনের ৭৫-৮০ স্ট্রাইক রেটে চালিয়ে যাচ্ছে। মুরলির আর চার ওভার বাকি আছে। কিন্তু খুব ভয়ঙ্কর দেখাচ্ছে না তাকে। মালিঙ্গার বাকি আছে পাঁচ ওভার।

গম্ভীর তখন ৭৭ রানে ব্যাট করছে। ইনিংসের তিন নম্বর বলেই ব্যাটিং করতে এসে তখনও লড়ে যাচ্ছিল। সেই সময় গম্ভীরের একটা বেশ পার্পল প্যাচ চলছিল। ২০০৭ এর টি২০ ওয়ার্ল্ড কাপের ফাইনালেও ৭৫ রান করেছিল। তারপর টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ডাবল সেঞ্চুরি, ইডেনে ওয়ান ডে তে ম্যাচ জেতানো ১৫০, সিডনিতে লড়াকু সেঞ্চুরি, আবার নেপিয়ারে ১১ ঘন্টা ব্যাটিং করে ম্যাচ বাঁচানো, গম্ভীর তখন মিস্টার ডিপেন্ডেবেল। সেদিনও বেশ পরিষ্কার খেলছিল। ডিফেন্স, সিংলস্‌, মাঝে মাঝে ট্রেড মার্ক পুল, যেমন এইটাঃ

34.4

Kulasekara to Gambhir, FOUR, Absolute wallop! He has smacked that. He walked down the track, fetched the short of length delivery and crashed it over midwicket. IT was the slower one and it was crunched.

ধোনি তার মধ্যে পিঠ ব্যাথা নিয়ে হাফ সেঞ্চুরিতে পৌঁছল। ‘ক্যাপ্টেন্স নক’ কিন্তু তখনও কাজ বাকি। গম্ভীর নব্বইয়ের ঘরে। একটা একটা করে রান করে চলেছে। ৯৬-৯৭… তার একটু আগেই মা বলেছে, “গম্ভীরের সেঞ্চুরিটা হলেই রুটি করতে যাবো। ইন্ডিয়ার ২২০ হয়ে গেছে। আর তো পঞ্চাশটা রান!”

হঠাৎ গম্ভীর আউট। পেরেরার সোজা একটা বল কায়দা করে স্টেপ আউট করে চার মেরে একশো করতে গেছিল। বলের লাইন মিস করে বোল্ড হয়ে গেল। ওয়ার্ল্ড কাপের ফাইনালে এরকম করে কেউ সেঞ্চুরি মিস করে! কিন্তু ঐ না করা তিনটে রানের জন্য তার আগের মূল্যবান ৯৭ টা রান মিথ্যে হয়ে যায় না। গম্ভীরের ঐ ৯৭টা রান সেদিন সন্ধ্যেবেলা সারা ভারতকে স্বপ্ন দেখিয়েছিল, ‘আজকে ঠিক হয়ে যাবে।’

যাই হোক, এরপরে অবশ্যই মাকে কোনভাবে রুটি করতে যেতে দেওয়া যায় না। আমার বাওয়ালের জোরে শেষ অবধি মা বসেই গেল। তার বদলে বাবা গেল ভাত বসাতে! ওয়ার্ল্ড কাপ ফাইনাল জিততে হবে, রুটি-ভাত কী খেলাম তার পর সেটা কি আদৌ মনে থাকার কথা!

যুবরাজ নামলো। ভারতের তখন দরকার ৫২ বলে ৫২ রান। যুবরাজ প্রথম তিনটে বল দেখেশুনে খেলে চতুর্থ বলটা শর্ট পড়তেই পুল মারল। চার! এখন দরকার আট ওভারে ৪৮ রান। খুব কঠিন কিছু নয়। আর বহু যুদ্ধের সহসৈনিক যুবি-মাহি ক্রিজে। মনে হচ্ছিল যেন একটা এক্সপ্রেস টেন বহু দূর থেকে এসে সাঁতরাগাছি পার করে গেছে। গন্তব্য হাওড়া। কিন্তু শেষের এইটুকু পথই যেন আর কাটতে চাইছে না!

(রাত নটা পঁয়তাল্লিশ)

ব্যাপারটা যতই কাছে আসছে ততই যেন আর বিশ্বাস হতে চাইছে না। টিভিতে দেখছি ওয়াংখেড়ের জনতা পুরো পাগল হয়ে গেছে। মাঝে মাঝে আমির খান আর বাকি সেলিব্রেটিদের দেখাচ্ছে। কারা কারা ছিল ভুলেও গেছি। মাঝে মাঝে বাজির আওয়াজও পাচ্ছি। যেমন আটচল্লিশতম ওভারে মালিঙ্গার বলে পর পর দুটো চারের পর হল। শ্রীলঙ্কার শেষ অস্ত্র ছিল মালিঙ্গা কিন্তু সেও আর ধোনিকে থামাতে পারছে না।

এখন বাকি বারো বলে পাঁচ রান। উত্তেজনার ব্যাপারটাই আর নেই। এখন শুধু অপেক্ষা সেই উন্মাদনার মুহূর্তটার জন্য। সোফা ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়েছি, ভেবে চলেছি, কটা বল লাগবে? এই ওভারটাই? নাকি লাস্ট ওভার অবধি ম্যাচটা গড়াবে। যুবরাজ স্ট্রাইকে। বিশ্বকাপের ম্যান অফ দ্যা টুর্নামেন্ট! ওই কি তাহলে উইনিং স্ট্রোকটা নেবে?

কুলশেখরা বল করতে এল। কী আসে যায়! কাউকে একটা তো বোলিং করতেই হবে। প্রথম বলেই যুবরাজের সিঙ্গল। ধোনির স্ট্রাইক। চার রান বাকি। কুলশেখরা এল, বল করল, ধোনির ব্যাট ঘুরল। বল উড়ে যাচ্ছে বাউন্ডারির বাইরে। টিভিতে রবি শাস্ত্রীর উল্লাস। মা হাততালি দিচ্ছে। পাশের বাড়ির চিৎকার। বাইরে বাজি ফাটতে শুরু করল। প্রথমে কয়েকটা মুহূর্ত কিছু বুঝতেই পারলাম না। তারপর আস্তে আস্তে হাঁটু মুড়ে বসে পড়লাম মেঝেতে। তারপর উল্লাসের কয়েকটা সেকেন্ড। সেই অনুভূতি লেখায় ফুটিয়ে তোলার ক্ষমতা আমার নেই।

WC4
photo source: thecommonmanspeaks.wordpress.com

তারপর আবার টিভিতে ফিরে গেলাম! আমি মাঠে নেই তো কী হয়েছে। ঐ তো ড্রেসিং রুমে গ্যারি কার্স্টেন, তার পাশে জাহির। লাফালাফি চলছে। ঐ যে যুবরাজ, জড়িয়ে ধরেছে ধোনিকে। বাকিরা ছুটে আসছে মাঠে। হরভজন কাঁদছে, তাতে লজ্জা কই, শুধু আনন্দ। বিরাট, পাঠান, রায়না… সবাই মাঠে। ওই যে শচীন মাঠে ঢুকল। ওকে জড়িয়ে ধরল যুবরাজ। একের পর এক মন ভালো করে দেওয়া দৃশ্য। শচীনকে কাঁধে নিয়ে ঘুরছে পুরো দল। ইন্টারভিউ দিতে দিতে চেঁচিয়ে উঠছে হরভজন, হেসে ফেলছে জাহির। উত্তেজিত বিরাট নাসির হুসেনকে বলছে, “শচীন ২১ বছর ধরে দেশকে বইছে, আজকের দিনে আমরা ওকে বয়ে নিয়ে এলাম।”

WC3
photo source: scoopwhoop.com

আমি শুনছি, শুনছি না, হাসছি, কাঁদছি… আমার দলের খেলোয়াড়দের মতই। এর পর একটু ধাতস্থ হয়ে গেলাম ফেসবুকে। সেখানেও তখন উৎসবের পরিবেশ! স্ট্যাটাস আপডেট দিলাম। বিশ্বজয়ী হিসেবে আমার প্রথম স্ট্যাটাস আপডেট,

Tapabrata Banerjee

2 April 2011 ·

He actually smiled while hitting that Six!!! The Best leader I have seen in cricket ground!! What a Man!!!

Like  Comment  Share

~ তপোব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়

Advertisements

One thought on “সেই উত্তেজনার দিন, সেই মায়াবী রাত

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s